‘জ্বরের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়,
প্যারাসিটামল যেন ঝলসানো রুটি!’
বই খাতায় Paracetamol (acetaminophen) হল analgesic, যে ব্যথা কমায়, যদিও আমরা অহরহ ব্যথা কমাতে NSAID ব্যবহার করি শুরুতে। গাইডলাইন বলে আগে analgesic, তারপর কাজ না হলে NSAID। আমাদেরই বা কি করার আছে, এদেশের অনেক Paracetamol ব্যথা তো দূরে থাক – জ্বরই ঠিকমত কমায় না! কিন্তু অনেক দেশে post operative analgesic হিসেবেও only Paracetamol ব্যবহার করা হয়!
Paracetamol হল centrally acting analgesic, যা Hypothalamus এ PGE2 synthesis কমায়। ফলে ব্যথা কমে যায়, কারণ ব্যথার মূল কারণই হল এই prostaglandin।
অন্যদিকে, Temperature set point থাকে Hypothalamus এ। বিভিন্ন infection, inflammation এ সেই set point এর পরিবর্তন হয় বলে জ্বর আসে, paracetamol সেই পরিবর্তনকে ঠিক করে। তাই ডেংগু জ্বরে মুখে ওষুধ বলতে শুধু এই paracetamol ই!
সকাল থেকে রাত, অসংখ্য জ্বরে আমরা কুপোকাত! সাম্প্রতিক ডেংগু জ্বরের ভীড়ে বাকি জ্বরেরা সংখ্যালঘু প্রায়। যে কারণে জ্বর শুনলেই প্রথমেই ডেংগু চিন্তা করছি। তা করি, কিন্তু বাকি সম্ভাবনাও মাথায় রাখা উচিৎ।
জ্বর কেন হয়?
কারণ হল –
- Infection
- Inflammation
- Metabolic
- Neoplasm
ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস নামের জীবাণু সন্ত্রাসী শরীরে ঢোকে, ইম্যুনিটি পুলিশ বাহিনী গুলি (pyrogens) করা শুরু করে, আর এই গুলিতেই জ্বর আসে। অর্থাৎ জ্বরের জন্য কিন্তু শরীর নিজেই দায়ী! শরীরের গুলি হল cytokines, এরা hypothalamus এর temperature set point পরিবর্তন করে, ফলেই জ্বর আসে। চলুন যাই, জ্বরের সমুদ্রে হাবুডুবু খাই!
Continuous fever:
জ্বর এসে সারাদিনে আর কমে না। সকাল বিকাল রাত একই রকম থাকে। সামান্য ওঠানামা করলে তাও ১ ডিগ্রির কম!
- – Pneumonia
- Typhoid
- UTI
- Infective endocarditis
- Brucellosis
- Typhus
Remittent fever:
জ্বর সারাদিন ওঠা নামা করে, ১ ডিগ্রির বেশি। তবে নেমে কখনো নর্মালে আসে না।
- Infective endocarditis
- Brucellosis
Intermittent fever:
জ্বর সারাদিন ওঠা নামা করে। নামতে নামতে নর্মালেও আসে।
- Pyogenic infection
- Tuberculosis
Double Quotidian fever:
ওই যে উপরে intermittent fever পড়লাম, সেখানে ওঠানামা যদি এমন হয়, যেমন জ্বর সকালে আসে – দুপুরে নাই – আবার রাতে আসে, অর্থাৎ দুই (double) বার আসে।
- Tuberculosis
Inverse fever:
ওই যে উপরে Double Quotidian fever পড়লাম, সেখানে দুইবেলার পরিবর্তে যদি একবেলা জ্বর আসে এবং সেটা সকালে তবে তাকে বলে Inverse fever।
- Miliary Tuberculosis
Relapsing fever:
অনেকটা intermittent fever এর মত। তবে এই জ্বর সারাদিনে উঠানামা করে না, উঠানামা করে ১/২/৩ দিন পরপর!
- Borrelia
- Malaria
Malaria তে আবার ৪ টা Plasmodium আছে৷ সেগুলোতে যেভাবে জ্বর আসে, তা হল-
- P. vivax ও P. ovale – ২ দিন পরপর (Tertian fever)
- P. malariae – ৩ দিন পরপর (Quartan fever)
- P. falciparam – একটু অন্যরকম। কখনো ১২, কখনো ২৪, কখনো ৩৬, কখনো বা ৪৮ ঘন্টা পরপর জ্বর আসে। টাইম টেবিল বোঝা কঠিন, তাই এটা বিপজ্জনকও বটে!
Pel Ebstein fever:
জ্বর ৩ দিন ধরে আস্তে আস্তে বাড়বে। এরপর ৩ দিন একই রকম থাকবে। এরপর ৩ দিন ধরে আস্তে আস্তে কমবে।
৩+৩+৩ = মোট ৯ দিন ধরে জ্বর থাকবে, পরের ৯ দিন আর জ্বর নাই।
- Hodgkin’s lymphoma
Step ladder fever:
জ্বর ladder বা মইয়ের মত step by step উপরের দিকে উঠতে থাকে। অর্থাৎ আজকের থেকে কাল বেশি, কাল থেকে পরশু বেশি, এভাবে চলতে থাকে।
- Typhoid
Saddleback/Biphasic fever:
জ্বর কয়েকদিন থেকে একদম কমে যায়। ২/৩ দিন পর আবার ব্যাক করে, তাই এটা saddleback!
- Dengue
Dengue তে অনেক সময় টানা বা continuous fever থাকতে পারে। যা এবছর বেশি হচ্ছে। Continuous fever এর এই সময়টাকে বলে febrile phase, তারপর ডেভেলপ করছে afebrile phase যেখানে হচ্ছে complication. অনেক সময় জ্বরটর কিচ্ছু নাই – atypical presentation।
Breakbone fever:
জ্বরের সাথে গায়ে প্রচন্ড ব্যথা। গায়ে বলতে – মাথায় ব্যথা, চোখে ব্যথা, মাংসে ব্যথা, হাড্ডিতে ব্যথা, গিড়ায় গিড়ায় ব্যথা!
- Dengue
- Chikungunya
Dengue তে মাংসে ব্যথা হাড় ব্যথা অপেক্ষা বেশি, যার উল্টোটা থাকে Chikungunya তে – arthralgia থাকে।
Low/Intermediate/High grade fever:
a. 100 -101° F : Low grade
- Tuberculosis
- UTI
- HIV
- Neoplasm
b. 102°F : Intermediate
c. 103 -104°F : High grade
- Pyogenic Bacterial infection
- Viral infection
d. 105° or more : Hyperpyrexia
- Malaria
- Septicaemia
- Heat Stroke
- Encephalitis
- Pontine hemorrhage
অজ্ঞাতনামা জ্বর (PUO/FUO):
PUO লিখে রোগী ভর্তি দিয়েছি। স্যাকমো রেজিস্টারে লিখছে PUD, আবার জিগায় স্যার গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট কই! সে যাই হোক, কোন টাইপের জ্বরকে আমরা Pyrexia of unknown origin বলি?
রোগীর ৩ সপ্তাহের বেশি জ্বর, এই জ্বরের জন্য সে আগেও দুবার ডাক্তার দেখিয়েছে, এমনকি হয়তো হাসপাতালেও ৩ দিন ভর্তি ছিল। সে সময় তার কিছু রুটিন টেস্টও করা হয়, কিন্তু জ্বরের নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনো জানা যায় নি! তবে চেষ্টা করে যান, কারণ তো অবশ্যই আছে, আপনিই পারবেন এ রহস্য সমাধান করতে।
Pyrexia of unknown origin এর সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ হল-
- HIV-AIDS
- Tuberculosis
- Periodic fever syndrome (Familial mediterranean fever)
- Concealed abscesses (empyema)
- Any neoplasm: specially blood borne – Lymphoma, Leukaemia
- Endocrine disease: specially Thyrotoxicosis, Addison’s disease.
- Connective tissue disease: RF, SLE, Still’s disease.
Neutropenic fever:
কোন ইনফেকশন থেকে জ্বর হলে শুরুর দিকে শরীরে পুলিশ বাহিনীর (Neutrophil) সংখ্যা বাড়ে। তাই প্রথম প্রথম আমরা Neutrophilia পাই। শত্রুবাহিনী Bacteria হলে Neutrophilia বেশি হয়।
কিন্তু শরীরে প্রবেশ করা শত্রু বাহিনী যদি পুলিশ বাহিনী অপেক্ষা শক্তিশালী হয় তবে উল্টো তারাই পুলিশকে (neutrophil) মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবে, হবে neutropenia। একে বলে neutropenic fever।
Factitious fever:
পড়া হয়নি, স্কুলে গেলে পিঠে আজ দু চার ঘা পড়বেই। তাই দু কোয়া রসুন দু বগলে রেখে জ্বর আনার চেষ্টা। সুস্থ মানুষ এসে বলবে ‘অনেক জ্বর!’ মেপে বললেন ‘কই জ্বর?’
উত্তরে বলবে ‘একটু আগেও ছিল, এখন নাই!’
এবার জ্বর নিয়ে আরো কিছু কথাঃ
Bacterial infection জনিত জ্বরে যেমন neutrophil বাড়ে (Neutrophilia), তেমনি Viral infection এ বাড়ে Lymphocytes (Lymphocytosis).
ইনফেকশন হয়ে রক্তে ব্যাপক শত্রুসেনা টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে, মাঝেমধ্যে গুলিও (toxin release) ছুড়ছে। অন্যদিকে ইম্যুনিটি আছে বেহাল দশায়। একে বলে Septicaemia। আর এই দশার জ্বরকে বলে Septic/Hectic fever।
- Bacterial infection
জ্বর সন্ধ্যার দিকে আসে, রাতে ঘাম দিয়ে ছাড়ে৷ Fever with Night Sweat।
- Tuberculosis
জ্বরের চাপে যেন ভূমিকম্প হচ্ছে! কম্বল দিয়ে চেপে ধরেও কাঁপুনি থামানো যাচ্ছে না, Fever with Chills and Rigors।
- Malaria
- Kala azar
- Cholangitis
- Septicaemia
- UTI
এই জ্বর খালি হাতে বেড়াতে আসেনা, সাথে নিয়ে আসে লাল লাল মিষ্টি (র্যাশ)! Fever with Rashes।
- Chicken pox
- Small pox
- Measles
- Rubella
- Allergy
- Septicaemia
- Infective endocarditis
- Vasculitis
- Dengue
Dengue তে জ্বর শুরু হওয়ার ২-৫ দিন পর petechiae বা purpuric rash থাকবে। চাপ দিলেও এই র্যাশ অদৃশ্য হবে না, অর্থাৎ non-blanching। মনে রাখতে হবে, হাত ও পায়ের তালুতে কোন র্যাশ থাকবে না। এই র্যাশ চেনার জন্য শুধু একটা লাইন মনে রাখতে হবে, white is lands in a sea of red – লাল সমুদ্রে (র্যাশে) সাদা দ্বীপ (স্কিন)!
জ্বরের প্রকোপে চোখে কিছু দেখছে না (photophobia), সাথে প্রচন্ড ম্যাথাব্যথা!
- Meningitis
- Encephalitis
জ্বরের ঘোরে ভুলভাল বকে (Delirium)।
- Meningitis
- Encephalitis
- Typhoid
অধিকাংশ জ্বরে প্রেশার কমে পালস বাড়লেও, Typhoid এ পালস কম থাকে, যাকে বলে Relative Bradycardia।
জ্বর নিজে তো কোন রোগ না, এটি অন্য রোগের উপসর্গ মাত্র। জ্বরের এই প্যাটার্নগুলো জানা থাকলে অন্য ফিচারগুলো মিলিয়ে ডায়াগনোসিস সহজ হয়।
ডেংগু রোগীর চিকিৎসা করতে করতে অনেকেরই জ্বরজ্বর ভাব হচ্ছে, মনে রাখা ভাল chronic stress causes a Persistent low-grade fever! তাই ভয়ের কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে।
জ্বর-যোদ্ধাদের জন্য শুভকামনা।
ডা. কাওসার উদ্দীন
ঢামেক, কে-৬৫
Pingback: Intravenous Fluid Management ।। হাবিজাবি ৪৩ – Platform | CME