Blog

Locked in Syndrome: Living The Life in Death

৮ই ডিসেম্বর,সাল ১৯৯৫।
ফরাসী সাংবাদিক,লেখক এবং বিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন Elle এর সম্পাদক Jean Dominique Bauby স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ঠিক ২০ দিন পর কোমা থেকে জেগে উঠেন। কিন্তু তিনি তার বাম চোখ বাদে শরীরের কোনো অংশই নাড়াতে পারছেন না। কথা বলার সক্ষমতাও নেই। তিনি যেন বন্দী,নিজের মাঝেই।

চিকিৎসাশাস্ত্রে একে বলা হয় “Locked in syndrome”। একে Pseudocoma,Ventral pontine syndrome এবং Cerebromedullospinal disconnection নামেও অভিহিত করা হয়।

আমাদের মস্তিষ্কের ব্রেইনস্টেম মূলত ৩টি অংশে বিভক্ত;মিড ব্রেন,পনস এবং মেডুলা। Locked in syndrome এ পনস ক্ষতিগ্রস্ত হয়(Ventral pons)। পনস নার্ভ ফাইবারের মাধ্যমে সেরেব্রাম,মেডুলা এবং সেরেবেলামের সাথে যুক্ত থাকে। এছাড়া মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার থেকে মোটর নার্ভ ফাইবার পনস হয়ে স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে মাংসপেশিতে পৌছায়। কিন্তু এক্ষেত্রে পনস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোনো মোটর ফাইবার ই মাংসপেশিতে পৌছাতে পারেনা। যার ফলে কোনো মাংসপেশিই কাজ করতে পারেনা। তাছাড়া মস্তিষ্ক পনস,মেডুলা,সেরেব্রাম এবং সেরেবেলামের মাঝে সংযোগ হারায়। এছাড়া Corticospinal এবং Corticobulbar tract সহ বাকি Aescending ও Deccending tract গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর স্বাভাবিক কাজ করতে পারেনা।

লক্ষণ ও উপসর্গঃ

অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই দেখা যায়,তারা কথা বলতে পারেন না এবং দেহের কোনো অংশই নাড়াতে পারেন না। শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ায় অক্ষমতা দেখা দেয় এবং কৃত্রিম শ্বাস -প্রশ্বাসের প্রয়োজন হয়। তবে ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা,ভাষাজ্ঞান,ভাবনা চিন্তার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
অর্থাৎ, লক্ষণ উপসর্গগুলো হচ্ছে-
• Quadriplegia with spastic paralysis(Due to bilateral corticospinal tract injury)
• Positive bilateral Babinski’s sign
• Anarthria (Due to bilateral facio-glosso-pharyngo-laryngeal paralysis.It also causes dysphagia)
• Cheyne-Stokes breathing or loss of voluntary control of breathing
• Limiting of facial expression
• No pain perception
• Patient is awake,alert and conscious(Due to intact reticular formation)
• Medial and lateral gaze palsy
• Horizontal eye movement.
দুর্ভাগ্যবশত কিছু আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটিও(Eye movement) অনুপস্থিত থাকে। এই অবস্থাকে তখন বলা হয় “Total locked in syndrome” বা “Complete locked in state(CLIS)

এখন প্রশ্ন জাগাটা খুবই স্বাভাবিক যে,Vertical eye movement থাকলেও কেন Horizontal eye movement absent থাকে?
👉 Bilateral abducens nucleus involvement এর কারণে ipsilateral “Lateral rectus” muscle এবং Contralateral “Medial rectus” muscle এর প্যারালাইসিস হয়। যার ফলে Horizontal eye movement absent থাকে
👉Supranuclear oculomotor pathway পনসের dorsally থাকার কারণে এটি intact থাকে। এজন্য Vertical eye movement সম্ভব হয়

কারণঃ

• স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ(সাধারণত basilar artery তে)।মোট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর ১% পরবর্তীতে “Locked in syndrome” এ আক্রান্ত হন।
• ব্রেইন ট্রমা(Ventral pons এ)
• টিউমার
• ইনফার্কশন
• নিউরোটক্সিন(সাধারণত Krait প্রজাতির সাপের নিউরোটক্সিন। এটি Blood brain barrier অতিক্রম করতে পারেনা)
• ইনফেকশন(abscess তৈরীর ফলে Ventral pons ক্ষতিগ্রস্ত হয়)
• ডিমায়েলিনেশন(Central pontine myelinolysis)

রোগনির্ণয়ঃ

এক্ষেত্রে MRI এবং EEG দুটো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। MRI এর মাধ্যমে পনসের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে চিহ্নিত করা যায়। অন্যদিকে EEG এর মাধ্যমে আক্রান্তের মস্তিষ্কের ইলেকট্রিক্যাল একটিভিটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়া MR angiography করে মস্তিষ্কের কোনো অংশের রক্ত জমাট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এত পরীক্ষার নিরীক্ষার পরেও রোগনির্ণয় বেশ কঠিন। ২০০২ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়,চিকিৎসকদের রোগনির্ণয়ে প্রায় ৩মাস সময় লাগছে।কারণ অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি কোমা থেকে বেশ দীর্ঘ সময় পর এই অবস্থায় প্রবেশ করেন।

চিকিৎসাঃ

এখন পর্যন্ত এর কোনো চিকিৎসা বা নিরাময় নেই। তবে কিছু কিছু আক্রান্তের ক্ষেত্রে ইলেকট্রোডের সাহায্যে মাংসপেশিকে উত্তেজিত করে কিছুটা আশা ব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গিয়েছে। এই পদ্ধতির নাম NMSE(Neuromascular electrical stimulation)। এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে এসব আক্রান্ত ব্যক্তি তার দেহের কিছু কিছু মাংসপেশির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন।এছাড়া লক্ষণ অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করা হয়।শ্বাস নিতে অক্ষম রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া হয়।সাকশন এবং অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আক্রান্তের ফুসফুসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়।চোখের পাতা পুরোপরি বন্ধ না হবার কারণে কর্ণিয়ার আলসার হতে পারে।এক্ষেত্রে Lateral tarsorrhaphy বা Botulinum therapy ব্যবহার করা হয়।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তিই ১০বছরের মধ্যে মৃত্যবরণ করেন। তবে কিছু কিছু আক্রান্ত আংশিক এবং বেশ স্বল্প সংখ্যক রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থতা লাভ করেন।

লেখার শুরুর সেই Jean Dominique Bauby এর জীবনের গল্পে ফিরে যাওয়া যাক। Locked in syndrome আক্রান্ত হয়েও তিনি কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি। এই অবস্থাতেই “Partner assisted scanning” এর সাহায্যে লিখে ফেলেন একটি বই; The Diving Bell and the Butterly. একজন সহযোগী তাকে ফ্রেঞ্চ ভাষার বর্ণমালা বলতেন এবং তিনি তার পছন্দের বর্ণটির জন্য চোখের পলক ফেলতেন। এভাবে দীর্ঘ ১০মাসে বইটির লেখার কাজ সমাপ্ত হয় যা প্রকাশের দিন ই ২৫০০০ কপি বিক্রি হয়। দূর্ভাগ্যজনক ভাবে বইটি প্রকাশের মাত্র দুদিন পরে ৯মার্চ,১৯৯৭ সালে তিনি নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যবরণ করে। নিজের মধ্যে বন্দী এই মানুষগুলোর আর্তনাদ Bauby এর লেখা বইয়ের একটি উক্তিই হয়ত যথার্থভাবে ফুটিয়ে তোলে,

“I am fading away. Slowly but surely. Like the sailor who watches his home shore gradually disappear, I watch my past recede.”

মোঃ আদিব সিদ্দিকী
হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ
সেশনঃ২০১৭-২০১৮

Leave a Reply