Blog

A 29 year old female with Cough, Heamoptysis and renal impairment || History Behind Diagnosis: 03

ওয়ার্ডে একদিন এক স্যার বলেছিলেন: অটোইমিউন ডিজিজ গুলো সাধারনত দল বেঁধে আসে, এইজন্য একটা থাকলে আরো খুঁজে দেখতে হয়!
এবারের পেশেন্ট আমার বাসার পাশের এক আপু। পেশায় ডাক্তার। বয়স ২৮/২৯ বছর হবে, বিবাহিত। কন্সিভ করার আগে ওনার রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস ধরা পড়ে। ডাক্তার দেখিয়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করেন। এরপর আপু কন্সিভ করেন। কন্সিভ করার পর বেবির কথা চিন্তা করে DMARD স্টপ করেন। বেবির জন্য কষ্ট সহ্য করে চলতেন। এরপর বাচ্চা আসলো পৃথিবীতে।

বাচ্চার জন্মের কয়েক মাসের মাথায় আপুর কিছু সমস্যা দেখা দিল। সবগুলোই নন-স্পেসিফিক সাইন-সিম্পটম ছিল(fever, malaise, fatigue etc)। খুব বেশি গুরুত্ব দেয়ার মত কিছু নয়, তাই তেমন গুরুত্বও দেন নি। এর সাথে জয়েন্ট পেইনও হতো, কিন্তু তিনি ভেবেছেন: যেহেতু আগে থেকেই রিমাটয়েড আথ্রাইটিস এর পেশেন্ট এবং DMARD সেবন করাও ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাই হয়ত জয়েন্ট পেইন হচ্ছে। তাই তেমন আর গুরুত্ব দেন নি। বেশি সমস্যা হলে নিজে নিজেই ঔষধ সেবন করেছেন। এই ছোটোখাটো সমস্যা গুলো নিয়েই প্রায় ছয়/সাত মাস পার করে দিলেন।

এবার এগুলোর সাথে উনার কাশি দেখা দিল। প্রথমে ভাবলেন এমনিতেই হয়ত কাশি হচ্ছে। কিন্তু গতানুগতিক ঔষধ সেবনেও যখন কাজ হচ্ছিল না, তখন ডাক্তার দেখালেন। কিন্তু টেস্ট করে স্পেসিফিক কোনো সমস্যাই ধরা পড়ছিল না। কয়েকবার ডাক্তার দেখালেন। কেউ সাসপেক্ট করলেন টিবি, কেউ নিউমোনিয়া। কিন্তু কোনো ঔষধেই কাশি আর কমছে না।

এভাবে প্রায় এক মাস কাশির পর একদিন হঠাৎ করে কাশির সাথে রক্ত আসতে শুরু করে (Haemoptysis)। এরপর যখন Massive Haemoptysis দেখা দেয়, তাড়াতাড়ি ডিএমসিএইচ এ ভর্তি হন। সেখান থেকে ওনাকে আইসিউ তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একই সাথে রেনাল ইমেপেয়ারমেন্টও চোখে পড়ে। তখন মেডিকেল বোর্ড গঠন করে প্রয়োজনীয় ইনভেস্টিগেশন করে ডায়াগনোসিস কনফার্ম হয়: Goodpasture Syndrome.
[আমরা জানি, এটি একটি রেয়ার অটোইমিউন ডিজিজ। এক্ষেত্রে লাংস এবং কিডনীর বেইজমেন্ট মেমব্রেনের(type 4 collagen) বিরুদ্ধে অটোএন্টিবডি তৈরি হয়(Anti GBM antibody)। এজন্য পেশেন্টে একই সাথে Haemoptysis & Haematuria দেখা দেয়। কিন্তু এটা অনেক লেইট প্রেজেন্টেশন। ইনিশিয়ালি এই ধরনের পেশেন্টরা সাধারনত vague symptoms নিয়ে হাজির হয়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াগনোসিস করা খুবই কঠিন।]


যা’ই হোক, পরবর্তীতে আপু কে প্লাজমাফেরেসিস এর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় গেন্ডারিয়া আজগর আলী হসপিটালে। সেখানে ডায়ালাইসিসও শুরু করা হয়। কিন্তু রেস্পিরেটিরী ফেইলুর আর সেপ্টিসেমিয়া প্রিভেন্ট করা সম্ভব হয় নি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে অল্প বয়সেই না ফেরার দেশে চলে যান আপু। (আল্লাহ মেহেরবানী করে আপুকে বেহেশত নসীব করুন।)

আপুর এক বছরের যে বাচ্চা টা মা কে ছাড়া একদিন থাকতে পারতো না, সে সারাজীবনের জন্য মা হারা হয়ে গেল! 🙁
এই ঘটনা টা আমাকে নাড়া দিয়ে গেছে। এরপর থেকে আমার কাছে মনে হয়, রেয়ার বলে কোনো ডিজিজ কে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই আসলে। যার হয়, তার জন্য তো ঐটাই কমন! 🙁
.
বি: দ্র: কেইস হিস্ট্রি জানতে/পড়তে এবং লিখতে ভালো লাগে। একরকম ভালো লাগা থেকেই লিখি। দয়া করে এই লেখালেখি কে কেউ অন্যভাবে নিবেন না।
Fahim Uddin
Khulna Medical College
Session: 2012-2013

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *